ভালোবাসা দিবসের দুই দিন আগেই মুক্তি পাচ্ছে প্রেমের ছবি ‘ফিতুর’। নানা গল্পের জন্ম দেওয়া এই ছবির কথা জানাচ্ছেন খালিদ জামিল
গত বছর রেড কার্পেটে ক্যাটরিনা কাইফ হাজির হলেন লাল রঙের চুল নিয়ে। জানা গেল এই রং করাতে খরচ পড়েছে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা! দর্শকরা নড়েচড়ে বসলেন কোন ছবি করছেন ক্যাট? যে ছবির নায়িকার চুলের পেছনেই শুধু এতগুলো টাকা খরচ করা হলো। পরে জানা গেল ‘ফিতুর’ ছবিতে অভিনয়ের জন্যই ক্যাটের এমন সাজ। ভারতে পছন্দমতো হেয়ার স্টাইলার না পাওয়ায় ক্যাটরিনাকে যেতে হয়েছিল লন্ডন। ছবির শুটিংয়ের সময়টায় কিছুদিন পর পর লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছেন শুধু চুলে রং করানোর জন্য। পাঁচতারা হোটেলে থাকা-খাওয়া, বিমান ভাড়া মিলিয়ে খরচটা বোধহয় একটু বেশিই হয়ে গেছে। তবে ছবির প্রযোজকরা সেটাকে স্রেফ গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। গুজব হোক আর সত্যি হোক—লোকজনের দৃষ্টি কিন্তু ঠিক কাড়া গেছে।
চুল রং করার পেছনে এত কিছু করেও পার পাননি ক্যাটরিনা। ‘পশমিনা’ গানের চিত্র ধারণের সময় তাঁর মতো বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে এ ছবির নায়ক আদিত্য রায় কাপুরকেও। ক্যাট বলেন, ‘গানের ব্যাপ্তি ছোট হলেও ওটার জন্যই আমাদের বড়দিন ও নববর্ষের ছুটি শিকেয় উঠেছিল। নাচের শুটিংয়ের সময় দুজনই আহত হয়েছি বেশ কয়েকবার।’
ত্যাগ স্বীকার আদিত্যও কম করেননি। প্রথমত, তিনি হঠাৎ করেই এই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর জায়গায় প্রথমে ভাবা হয়েছিল সুশান্ত সিং রাজপুতকে। কিন্তু শেখর কাপুরের নতুন ছবি ‘পানি’তে অভিনয়ের জন্য ফিতুরের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। অন্যদিকে ‘ফিতুর’-এর কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে শুধু এই ছবিতে মনোযোগ দিতেই দুটি বড় বাজেটের হিন্দি ছবির প্রস্তাব ফিরিয়েছেন আদিত্য।
‘ফিতুর’ ছবিতে ‘বেগম হজরত’ চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল রেখার। দুই দিন শুটিং করার পর হঠাৎ জানালেন, এই ছবিতে অভিনয় করবেন না। চরিত্রটি নাকি তাঁর নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। প্রযোজকদের এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করেন টাবু। ছবির চিত্রনাট্য না পড়েই চুক্তি করে ফেলেন তিনি। কস্টিউম ঠিক করেন। দিয়ে ফেলেন স্ক্রিন টেস্টও। সবকিছু গুছিয়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার মাথায় ছবির ‘বেগম হজরত’ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন ক্যামেরার সামনে! টাবু জানান, ‘অনেক কম সময়ে হলেও এই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্তটা ভেবেচিন্তেই নিয়েছিলাম। কেউ কারো বিকল্প হতে পারে না। রেখাজি যখন বললেন পারবেন না, তত দিনে কাজ বেশ কিছুদূর এগিয়ে গিয়েছিল। এমনকি মনীষ মালহোত্রার সঙ্গে মিলে নিজের জন্য কস্টিউমও ঠিক করেই রেখেছিলেন তিনি। তাই খুব একটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি।’
তবে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ছবির প্রযোজকদের। বিখ্যাত ইংরেজ ঔপন্যাসিক চার্লস ডিকেন্সের ‘গ্রেট এক্সপেকটেশন্স’ অবলম্বনে নির্মিত ‘ফিতুর’-এর কয়েকটি দৃশ্য ধারণের জন্য কাশ্মীরকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। এর আগে সেখানে বন্যার কারণে বেশ কিছু পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শুটিং মুম্বাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছবির নায়ক আদিত্য গোঁ ধরলেন, প্রেমের ছবির জন্য ভূস্বর্গ কাশ্মীরের বিকল্প হতে পারে না। ছবির পরিচালক অভিষেক কাপুরও একমত হন তাঁর সঙ্গে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে শেষ পর্যন্ত কাশ্মীরেই শুরু হয় শুটিং। আবহাওয়ার হিসাব মেলাতে মেলাতে খরচের লাগাম টেনে ধরে রাখতে ভালোই হিমশিম খেয়েছেন ছবির পেছনের কলাকুশলীরা।
0 Comment "ভালোবাসার জন্য ফিতুর"
Post a Comment