কোন মেয়েই পতিতা হয়ে জন্মায় না । আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক সমস্যা , পক্ষপাতদুষ্ট সামাজিক নিয়ম, পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব ইত্যাদি পরিস্থিতির স্বীকার হয়েই একটা মেয়ে বেছে নিতে বাধ্য হয় এই ঘৃণিত পতিতার জীবন । এটা কোন মেয়েরই কাম্য জীবন নয় । একটা মেয়ের পতিতা হয়ে উঠার পেছনের কাহিনী যাই হোক এটা ঠিক যে কোন মেয়েই স্বেচ্ছায় পতিতার জীবন বেছে নেয়না । কিন্তু প্রায় সব সময়ই যে বা যারা এই মেয়েটিকে অন্ধকার পতিতার জীবনে ঠেলে দিচ্ছে তারা রহস্যময় ভাবে থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে । যে পুরুষটি তাকে ব্যবহারের মাধ্যমে পতিতার সীলমোহর লাগিয়ে দিচ্ছে সেও সমাজের বুকে কোন নারীর সন্তান, ভাই, স্বামী বা বাবা হিসেবে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । সমাজের কাছে আজ একটা প্রশ্ন “আমরা অভিধানে কেন পতিতা, গনিকা বা বেশ্যা এগুলোর পুরুষলিঙ্গ কোন শব্দ যোগ করছি না । কেন অন্যের কৃত কর্মের দায় শুধুমাত্র মেয়েটিকেই একা বয়ে বেড়াতে হবে ? যে সমাজ মেয়েটিকে নিরাপত্তা দিতে পারল না , তার প্রতি হয়ে যাওয়া অন্যায়ের সুবিচার করতে পারল না, তার কি অধিকার আছে এই মেয়েটির দিকে আঙ্গুল তোলার ?
নিশি (মানুষের দেয়া নাম) মেয়েটি কদিন হল অসুখ থেকে উঠেছে।কাজে যেতে পারছে না।কাজের জন্য রাতে বের হতে হয়।বৈরী আবহাওয়া,খদ্দের পাওয়া যায়না। অসুখের জন্য কিছু টাকা ঋণ ও করতে হয়েছে তাকে মালার কাছ থেকে।মালা তা বান্ধবী সেও একই কাজ করে। যেভাবেই হোক ঋণের টাকা আগে শোধ করতে হবে। এ পথে এসেছে আজ প্রায় দুই বছর। মামা নিয়ে এসেছে দেশ থেকে ঢাকা শহরে। সেদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করেও কাজে বের হয় সন্ধা। রাত হলেও সেজে বের হতে হয় না হলে খদ্দেরের চোখে লাগে না।
ভালো সাজ দিতে পারলে রেট টাও বেশি।দালাল পুলিশ নিয়ে যায় কাজের অর্ধেকের বেশি টাকা। পথে পথে ঘুরতে হয়,বিশেষ কিছু জায়গা আছে কাস্টমাররা আসে।বৃষ্টি তাই আজ মানুষ কম।তবুও যাদের অনেক ক্ষিধা ঠিকই আসবে, নিশি ও পেট বাঁচাতে হবে অন্য উপায় নেই।
ভালো সাজ দিতে পারলে রেট টাও বেশি।দালাল পুলিশ নিয়ে যায় কাজের অর্ধেকের বেশি টাকা। পথে পথে ঘুরতে হয়,বিশেষ কিছু জায়গা আছে কাস্টমাররা আসে।বৃষ্টি তাই আজ মানুষ কম।তবুও যাদের অনেক ক্ষিধা ঠিকই আসবে, নিশি ও পেট বাঁচাতে হবে অন্য উপায় নেই।
কয়েকজনের সাথে কথা বলছে, কিন্তু ধর দামে মিলছে না। রাত প্রায় অনেক হয়ে গেছে। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিও বাড়ছে। রাস্তা পাড় হবে,ঐপাশ টাই কিছু লোক দেখা যাচ্ছে !
রাস্তাটা পার হওয়াও অনেক কঠিন। লোকগুলি চলে যাচ্ছে তাই দ্রুত যেতে হবে দুদিক না দেখেই দৌড় দিল নিশি কিন্তু রাস্তাটা আর পার হতে পারলো না, একটি প্রাইভেট কার চাপা দেয় নিশি কে।
আশপাশের লোকজন জড় হয় সেখানে,লালবাতি এলাকায় খবর পৌছে যায় নিশি এক্সিডেন্ট করেছে।পুলিশ আসে,পুলিশ দেখে মানুষ জন সরে পড়ে। তখনো দেহে প্রান ছিল নিশির।পুলিশ হাসপাতালের কথা বলে নিয়ে যায় নিশি।
রাত গড়িয়ে সকাল হয়,বৃষ্টির ভাবটা আজ কেটেগেছে। ঝকঝকে রোদ।সেই চির চেনা রাস্তা,বড় বড় গাড়ি শতশত মানুষ।রাতে এখানে কিছু হয়েছিল বুঝারই উপায় নেই।কয়েকটা মানুষ কয়েকটা হাসপাতালে নিশির খোঁজ করেছিল কিন্তু নিশি নামের কোন রোগী এখানে ভর্তি হয়নি।থানায় ও গিয়েছিল,তারাও কিছু জানে না। একটি নিশি রাতের অন্ধকারে গায়েব হয়ে গেল,এভাবে হয়তো প্রতিদিন নতুন করে গায়েব হয়ে অন্য কোন নিশি জীবন।কিছু মানুষ চিরকালই অন্ধকারে থেকে যায়।।
পরিশেষে বলতে চাই,জীবন বড়ই কঠিন যা একজন মানুষকে সব কিছু করতেই বাধ্য করে।এর জন্য আমরাই দায়ী।আমরা নিজেদের মত চলতে থাকবো এবং আশপাশ দিয়ে দু-একজন গায়েব হয়ে যাবে আর আমরা টেরও পাবো না।
0 Comment "[জীবনের গল্প] একজন নিশি’র হারিয়ে যাওয়ার গল্প !"
Post a Comment