১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ‘ভ্যালেন্টাইনস সেলিব্রেশন উইথ জেমস অ্যান্ড সনম’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে গান করবে ভারতীয় ব্যান্ড সনম। লিখেছেন মোহসেনা জয়া
‘সনম’ ব্যান্ডের চার সদস্য সনম পুরি, সমর পুরি, ভেন কি এস, কেশব ধনরাজ
‘ভ্যালেন্টাইনস সেলিব্রেশন উইথ জেমস অ্যান্ড সনম’ অনুষ্ঠানে গান করতে ঢাকায় আসছে ভারতীয় ব্যান্ড ‘সনম’। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির নবরাত্রি হলে অনুষ্ঠিত হবে এই অনুষ্ঠান। আয়োজনে অ্যান্টোরাজ এন্টারটেইনমেন্ট। শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত। নগর বাউল জেমসের পর মঞ্চে উঠবে সনম। পরিবেশন করবে নিজেদের জনপ্রিয় এবং শ্রোতাদের অনুরোধের গান। এর আগে একাধিক ঘরোয়া আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করলেও বাংলাদেশে সনমের এটাই বড় কনসার্ট। ব্যান্ডের ভোকাল ২৬ বছর বয়সী সনম পুরি এই নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত! ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে বলেন, ‘প্রস্তুত থেকো বাংলাদেশ। দেখা হচ্ছে শিগগিরই!’
সনম মূলত কাভার সং গেয়েই আলোচনায় আসে। বলিউডের বেশ কিছু ছবিতে প্লেব্যাকও করেছে। ২০১১ সালে সনম পুরি তাঁর ভাই সমর পুরি, ভেন কি এস সুব্রহ্মণ্যম ও কেশব ধনরাজকে নিয়ে ‘সনম’ ব্যান্ড তৈরি করেন। প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মাথায় তাঁরা ‘সুপারস্টার্স’ শিরোনামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। ২০১২ সালে অন্যদের রেখে ভাই সমর পুরিকে নিয়ে ‘সমর সনম’ নামে আরেকটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। এই অ্যালবামটির জন্য ভালো রেসপন্সও পান। তবে সাফল্যের ভাগিদার হন ব্যান্ডের সবাই। অ্যালবামটি দিয়ে সনম পুরিও আলোচনায় আসেন। এই গায়কের হাতেকলমে সংগীত শিক্ষা নেই বললেই চলে। ছেলেবেলাটা কাটে ওমানের রাজধানী মাসকাটে। সেখানে থাকা অবস্থায় ছয় বছর বয়সে গিটার, পিয়ানো এবং অন্যান্য যন্ত্র বাজানোর পাশাপাশি গায়ক হিসেবেও দক্ষতা অর্জন করতে থাকেন। তাঁর মা ও ভাই সমর পুরির উৎসাহে নিয়মিত সংগীত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান। মুম্বাইয়ে বসবাসের পর সংগীতকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করেন। তাঁর একাডেমিক পড়াশোনার স্মৃতি অবশ্য সুখকর নয়। ভারতের নয়ডার বাল ভারতী পাবলিক স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু। স্কুল ডিঙিয়ে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কিরোলি মল কলেজে ভর্তি হন। ছয় মাস না যেতেই র্যাগিংয়ের শিকার হন। কোনোভাবেই টিকতে পারছিলেন না। বাধ্য হয়ে কলেজ ছাড়েন, মন দেন গানে। সনম ব্যান্ড নিয়েই পড়ে থাকেন। নাম লেখান প্লেব্যাকেও।
২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গোরি তেরে প্যায়ার মেঁ’তে বিশাল-শেখরের করা ‘ধ্যাত্তেরি’ গান দিয়ে হিন্দি ছবিতে তাঁর অভিষেক। গানটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। এরপর বিশাল-শেখরের সুরে ‘হাসি তো ফাঁসি’ ছবিতে কণ্ঠ দেন ‘ইশক বুলাওয়া’য়। তারপর থেকে কাজ করেই চলছেন সনম। হিন্দির পাশাপাশি তেলেগু ছবিতেও গাইছেন। ২০১৪ সালে ‘চান্দামামা কথালু’ ছবিতে তাঁর গাওয়া ‘এ কাঁধ’ গানটি বেশ আলোচিত হয়। কোক স্টুডিও এপিসোড-৩-এ সুরকার ক্লিনটন সেরেজ ও লেখক মনোজ যাদবের করা ‘পিঞ্জিরা’ গানটি গেয়েও অনেক প্রশংসিত হন এ গায়ক।
0 Comment "আসছে সনম"
Post a Comment